রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে হাসপাতাল পরিচালনায় স্বচ্ছতার অভাব, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ঠিকাদারের প্রভাব বিস্তার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডা. আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে এক যুবতীকে নিয়ে রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি রেস্ট হাউসে অবস্থান এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ সংক্রান্ত কিছু ভিডিও ফুটেজও তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, হাসপাতালের ভর্তি রোগীর তালিকা ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি রয়েছে। হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, তালিকায় ২০ থেকে ৩০ জন রোগীর নাম থাকলেও ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় বাস্তবে সেখানে উপস্থিত রোগীর সংখ্যা ছিল অনেক কম।
এ বিষয়ে কর্তব্যরত নার্স ও হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফদের কাছে তথ্য জানতে চাইলে তারা মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ সংগ্রহের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও করা হয়। একপর্যায়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তাদের মধ্যে একজন নিজেকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও হাসপাতালের ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে নিজের নাম মুকুল বলে জানান।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হাসপাতালের কেনাকাটা ও বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মতামত জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত বা মৌখিক প্রতিক্রিয়া জানাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের অন্যান্যরা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
বাঘা উপজেলার সচেতন মহল ও সর্বস্তরের এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাসপাতালের সামগ্রিক কার্যক্রম ও উত্থাপিত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।





