নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মোঃ আব্দুল লতিফ মল্লিকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সেবাপ্রত্যাশী। অভিযোগকারীদের দাবি, জমির পর্চা সংশোধন, খতিয়ান বহাল রাখা কিংবা ৩০ ধারার মামলার রায় প্রদানের ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া তিনি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমিও অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তির নামে রেকর্ড করে দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া জমির মালিকদের সঙ্গে সরাসরি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অফিসের বাইরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুল লতিফ মল্লিকের মূল কর্মস্থল নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায়। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তিনি সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে তার আদালতে চলমান বড় বরদেশী মৌজার প্রায় ৭৩৫টি ৩০ ধারার মামলাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি অফিস সময় শেষ হওয়ার পরও তার দপ্তরে কার্যক্রম চলতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অফিস সময়ের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হয়। যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নিজেদের পৈত্রিক বা ক্রয়কৃত জমির ন্যায্য রায় পেতে তারা কার্যত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ প্রদান করলে ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, আর অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে দীর্ঘদিন ধরে রায় ঝুলিয়ে রাখা হয়।
বড় বরদেশী এলাকার এক প্রবীণ ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, “মাঠ পর্চা ও তসদিক আমার নামে থাকা সত্ত্বেও, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে আমার জমি কর্তন করা হয়েছে।”
আরেক ব্যবসায়ীর দাবি, তার নামে বিআরএস রেকর্ডভুক্ত জমির মামলায় বাদী ‘না-দাবি’ দেওয়ার পরও খতিয়ান বহাল রাখতে তার কাছে অর্থ দাবি করা হয়।
এক নারী অভিযোগ করে বলেন, “আমি গরু বিক্রি করে টাকা নিয়ে এসেছি। কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে, এই টাকায় কাজ হবে না; আরও টাকা না দিলে জমি থাকবে না।”
এদিকে, কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তবে তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়-এর মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে মোঃ আব্দুল লতিফ মল্লিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে।
(চলবে…)
আগামী পর্বে: সরকারি ‘ক’ তফসিলভুক্ত খতিয়ান সংক্রান্ত অভিযোগ এবং চুনারচর মৌজার তসদিক প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগকারীদের উত্থাপিত বিভিন্ন তথ্য।





