সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর এলাকায় ‘দখিনা সিটি’ নামে একটি আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সরকারি খাল ভরাট, খালের গতিপথ পরিবর্তন, ভূমি দখল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাল ভরাট করে এবং স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পরিবর্তন করে আবাসন প্রকল্পের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জোরপূর্বক জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কম দামে জমি কিনে নেওয়া এবং বসতভিটার মাটি কেটে প্রকল্প এলাকায় ভরাটে ব্যবহার করছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, এসব কর্মকাণ্ডে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কেটে ফেলায় অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ জরুরি সেবা গ্রহণকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
একজন বাসিন্দা বলেন,
“দখিনা সিটির কারণে আমরা নানা সমস্যায় আছি। আমাদের জমি দখল করা হচ্ছে, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা নিজেদের গ্রামেই যেন বন্দি হয়ে পড়েছি।”
আরেকজন বলেন,
“আমাদের বাড়ির মাটি কেটে নেওয়ায় ঘরবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে আছে। পরিবার নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছি।”
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বসতভিটার মাটি অপসারণের কারণে অনেক ঘরবাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।
এদিকে, সরকারি খাল ভরাট ও গতিপথ পরিবর্তনের ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে আশপাশের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা অবিলম্বে খাল পুনরুদ্ধার, দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং কেটে দেওয়া রাস্তা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ‘দখিনা সিটি’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যার ফলে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।





