আজ থেকে ১৫ দিন অস্থায়ী পাশ নিয়ে সচিবালয়ে ঢুকতে পারবেন সাংবাদিকরা। এরপর থেকে স্থায়ী পাশ নিয়ে তারা প্রবেশ করতে পারবেন। রোববার দুপুর দেড়টায় সাংবাদিকদের এ কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আবেদনের ভিত্তিতে নীতিমালা অনুযায়ী নতুন করে স্থায়ী পাশ দেওয়া হবে। আগামীকাল (আজ) থেকে অস্থায়ী পাশ দেওয়া হবে। কাল-পরশু থেকে স্থায়ী পাশের আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, কালকে থেকে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যায় (সাংবাদিকরা) সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজটি করবে। আজকে (রোববার) ১৬০ বা ১৭০ জনের একটা তালিকা করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। হয়তো সংখ্যাটা আরেকটু বাড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে স্থায়ী পাশ না হওয়া পর্যন্ত যত কম রাখা যায়। আমরা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাংবাদিকদের আবেদনের ভিত্তিতে নতুন করে স্থায়ী পাশের ব্যবস্থাটি করব।
সাংবাদিকদের কার্ড সংখ্যা কমিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘তিন হাজার প্লাস, সবাই কিন্তু সাংবাদিক নন। অনেকে নামসর্বস্ব পত্রিকার নাম ব্যবহার করে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেগুলো পুনর্মূল্যায়ন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। সেজন্য আমাদের কিছুটা সময় লাগবে। তিন হাজার প্লাস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড আমরা রাখতে পারব না। এর বেশিরভাগই ভুয়া।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয় কাভার করা সাংবাদিকদের সংগঠন বিএসআরএফের সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব এবং মাসউদুল হকের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের জন্য সচিবালয়ে প্রবেশ করে। সেখানে উপদেষ্টা জানান, কাল (আজ) থেকে অস্থায়ী পাশ নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন সাংবাদিকরা। তালিকা অনুযায়ী আগামী ১৫ দিন অস্থায়ী পাশ দিয়ে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারবেন।
এরপর থেকে স্থায়ী পাশ নিয়ে তারা প্রবেশ করতে পারবেন। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী আজাদ মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক শফিউল্লাহ সুমন, দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন (রাকিব), প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক ফারুক আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য ঝর্ণা রায়, উবায়দুল্লাহ বাদল, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাহমুদ আকাশ, মো. রাকিব হাসান, মহসীনুল করিম লেব, আয়নাল হোসেন। ছিলেন সংগঠনের সদস্য ইসমাইল হোসাইন রাসেল, আমিরুল ইসলাম, এমএ নোমান, শাহনাজ বিশ্বাস ইয়াসমিন, মো. আরীফ হোসেন, মো. শামছুল ইসলাম ও হাসিফ মাহমুদ শাহ।
এর আগে সকাল থেকে অস্থায়ী পাশের জন্য আবেদন নেওয়া শুরু হয়। সচিবালয়ের পাশে পুলিশের সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে এই পাশ ইস্যু করা হচ্ছে। সেখানে দুপুরে সাংবাদিকদের ভিড় দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বরত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার রাতে সচিবালয়ে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
সচিবালয়ে কর্মরত কর্মচারীদের অনুকূলে দেওয়া স্থায়ী প্রবেশ পাশ এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য দেওয়া অস্থায়ী প্রবেশ পাশ ছাড়া সব ধরনের অস্থায়ী (বেসরকারি ব্যক্তিদের জন্য) সচিবালয় প্রবেশ পাশ বাতিল করা হয়। বাতিল করা হয়, সাংবাদিকদের অনুকূলে ইস্যু করা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশাধিকারও। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে শনিবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বলা হয়, শিগগির নতুন আবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেওয়া হবে।





