ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত এআইইউবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়াজেদ সীমান্ত নিহতের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
নারায়ণগঞ্জ উপ-শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মোঃ শওকত আলী কর্তৃক সদর থানায় উপস্থিত হয়ে সরেজমিন তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যাদি নিম্নে উপস্থাপন করা হলো।
গত ১১ ডিসেম্বর আনুমানিক ০৬:৩০ ঘটিকায় নারায়ণগঞ্জ শহরস্থ দেওভোগ মিন্নত আলীর মাজার এলাকায় ছিনতাইকারী আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (AIUB) এর ২য় বর্ষের ছাত্র ওয়াজেদ সিমান্ত ঢাকায় যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। এসময় ছিনতাইকারীরা তার নিকট থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। উল্লেখ্য ছিনাতাইকারীরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ধ্বস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার মাথায়, পেটে ও উরুতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে নিহতের পিতা আলম চাঁন বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা নং-০৮ তারিখঃ ১৬/০৯/২০২৪ দায়ের করে।পুলিশ ইতোমধ্যে ছিনতাই ও খুনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ছিনতাইকারী মোঃ অনিক(২৭) ও সাইদুর রহমান আকাশ(৩৪) নামের ০২ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের সময় অভিযুক্ত অনিকের নিকট থেকে নিহত ওয়াজেদ সীমান্তের ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ছোরা
উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামী অনিক গতকাল(১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
আটককৃত ব্যক্তিরা ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত বলে জানা যায়। অনিকের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মোট ০৮ টি মামলা রয়েছে (মামলা নং-৪৬ তারিখঃ ২৭/০৭/২০২০, মামলা নং-৫৪ তারিখঃ ২০/১১/২০১৯, মামলা নং-৪৬ তারিখঃ ১০/০৭/২০১৯, মামলা নং-১৯ তারিখঃ ০৭/০১/২০১৯, মামলা নং-৭৪ তারিখঃ ২৯/১১/২০২২, মামলা নং-৩৬ তারিখঃ ১৫/০৩/২০২৩, মামলা নং-১২ তারিখঃ ০৪/০৭/২০২১,মামলা নং-৪৮ তারিখঃ ১৭/০৫/২০২২ । আটককৃত ব্যক্তিরা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে উক্ত ওয়াজেদ কে ছুরিকাঘাত করেছে বলে পুলিশের নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।
নিহত শিক্ষার্থী ওয়াজেদ সীমান্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন না বলে তার পিতা আলম চাঁন (০১৮১৭৫১০৫৩৫) জানায়। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্নয়ক ফারহানা মানিক মুনার সাথে কথা বলে জানা যায় তার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল না।





