সেলিম আহম্মেদ, জেলা ব্যুরো প্রধান (সাতক্ষীরা):
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিরোধের জেরে তেলবাহী গাড়ি আটকের হুমকি এবং নিরাপত্তা সংকটের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ম্যানেজার বেলাল হোসেন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী শ্যামনগরের ফিলিং স্টেশনগুলো সীমিত আকারে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণ করছে।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউনিয়নভিত্তিক নির্ধারিত দিনে সুশৃঙ্খলভাবে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। শনিবার ছিল নুরনগর ইউনিয়নের জন্য নির্ধারিত দিন এবং সকাল থেকে নিয়ম মেনে জ্বালানি বিতরণ চলছিল।
এ সময় হঠাৎ পাশ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন থেকে শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী ফিলিং স্টেশনে এসে তেল নেওয়ার দাবি জানান। কর্তৃপক্ষ তাদের নির্ধারিত সময়সূচির কথা জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাইরের ওই মোটরসাইকেল আরোহীরা একপর্যায়ে স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। গালিগালাজ, হুমকি ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্ধারিত ইউনিয়নের সেবা গ্রহণকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল নবী বাবু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্টেশন মালিক নাহিদ নাজনীনকে লক্ষ্য করে অশালীন আচরণ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে তেলবাহী গাড়ি আটকে দেওয়া, ভাঙচুর চালানো এবং ভবিষ্যতে শ্যামনগরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, তেলবাহী গাড়িগুলোকে শ্যামনগরে প্রবেশ করতে হলে মৌতলা ইউনিয়ন দিয়ে আসতে হয়। ফলে ওই এলাকায় লুটপাট বা বাধা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মালিক ও কর্মচারীদের চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সম্পদ নিয়েও স্টেশনটি নিয়ম মেনে জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতের যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সাময়িকভাবে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা কিংবা প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম স্থগিত করার কথাও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে সকল মহলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।





