অঞ্জনি একটি সাধারণ কিন্তু অস্বস্তিকর সমস্যা, যা চোখের পাতার গ্রন্থিতে সংক্রমণের ফলে তৈরি হয়। চোখের পাতায় থাকা মেবোমিয়ান গ্ল্যান্ড চোখের পানিকে দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। কিন্তু কোনো কারণে এই গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে এবং সেখানে জীবাণু সংক্রমণ ঘটলে তৈলাক্ত পদার্থ জমে গিয়ে ফোলা ভাব ও ব্যথা সৃষ্টি করে, যাকে সাধারণভাবে অঞ্জনি বা স্টাই বলা হয়।
চোখের পাতার ওপর বা নিচে ফুসকুড়ির মতো ফুলে ওঠা। এ সমস্যা মূলত দুই ধরনের হতে পারে– স্টাই বা অঞ্জনি ও ক্যালাজিয়ন। অঞ্জনি সাধারণত সংক্রমণজনিত এবং এতে ব্যথা বেশি হয়। অন্যদিকে ক্যালাজিয়ন তুলনামূলক কম ব্যথাযুক্ত হলেও ধীরে ধীরে বড় হতে পারে।
অঞ্জনি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই, তবে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করা গেছে। যেমন– চোখের দৃষ্টিজনিত সমস্যা, চোখের পাতায় খুশকি, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, ডায়াবেটিস, ত্বকের শুষ্কতা, মাথার খুশকি, হরমোনের পরিবর্তন, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার এবং নিম্নমানের কসমেটিকস ব্যবহার।
এ রোগের লক্ষণ হিসেবে চোখের পাতায় ফোলা, লাল ভাব, ব্যথা, খচখচ অনুভূতি, পানি পড়া এবং কখনও পুঁজ জমা দেখা যায়। চোখের সংক্রমণ বাড়লে দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে।
অঞ্জনি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। হালকা গরম পানির সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়। প্রয়োজনে ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা যেতে
পারে। নিজে থেকে পুঁজ বের করার চেষ্টা না করাই ভালো।
এ অবস্থায় চোখে খোঁচাখুঁচি করা, কন্টাক্ট লেন্স বা প্রসাধনী ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সঠিক পরিচর্যা ও সচেতনতার মাধ্যমে অঞ্জনি দ্রুত ভালো হয়ে যায় এবং জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
লেখক : কনসালট্যান্ট, যশোর চক্ষু ক্লিনিক ও ফেকোসেন্টার।





