Monday, 2 Nov 2026
  • About
  • Contact
  • Terms & Conditions
  • Privacy Policy
  • Sitemap
ম্যাগাজিন
Chikitsha Samoyeki
  • শীর্ষ সংবাদ
  • সারাদেশ
  • জাতীয়
  • বিনোদন
  • ভিডিও
  • আমাদের পরিবার
Reading: সন্তান জন্মদানে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে সিজার করার হার, প্রতিকার জানালেন বিশেষজ্ঞরা
Notification
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • রাজশাহী
    • খুলনা
    • বরিশাল
    • সিলেট
    • রংপুর
    • ময়মনসিংহ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • প্রবাস
  • রাজনীতি
  • তথ্য প্রযুক্তি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
    • ঢালিউড
    • বলিউড
  • লাইফস্টাইল
  • শিক্ষা
  • শীর্ষ সংবাদ
  • সারাদেশ
  • জাতীয়
  • বিনোদন
  • ভিডিও
  • আমাদের পরিবার
Reading: সন্তান জন্মদানে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে সিজার করার হার, প্রতিকার জানালেন বিশেষজ্ঞরা
শীর্ষ সংবাদ:
সুস্থ থাকতে কীভাবে সতর্ক থাকবেন, জেনে নিন প্রয়োজনীয় পরামর্শ
শ্যামনগর বিএনপির ইউনিয়ন কমিটিতে ‘বিতর্কিত’ ৪৭ জন! তৃণমূলে ক্ষোভ
গোমস্তাপুরে এক মাসে ইউএনও জিল্লুর রহমানের নানা উদ্যোগ
ফায়ার সার্ভিস কর্মীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক স্বপন দেওয়ানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ
আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু
Font ResizerAa
Chikitsha SamoyekiChikitsha Samoyeki
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • সারাদেশ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • প্রবাস
  • রাজনীতি
  • তথ্য প্রযুক্তি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • শিক্ষা
Search
  • হোম
  • সর্বশেষ
  • সারাদেশ
    • ঢাকা
    • চট্টগ্রাম
    • রাজশাহী
    • খুলনা
    • বরিশাল
    • সিলেট
    • রংপুর
    • ময়মনসিংহ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • প্রবাস
  • রাজনীতি
  • তথ্য প্রযুক্তি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
    • ঢালিউড
    • বলিউড
  • লাইফস্টাইল
  • শিক্ষা
Follow US
  • About
  • Contact
  • Terms & Conditions
  • Privacy Policy
  • Sitemap
© 2024 Chikitsha Samoyeki. Rabbi's IT Service. All Rights Reserved.
শীর্ষ সংবাদস্বাস্থ্য চিকিৎসা

সন্তান জন্মদানে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে সিজার করার হার, প্রতিকার জানালেন বিশেষজ্ঞরা

চিকিৎসা সাময়িকী
Last updated: May 6, 2026 3:09 pm
চিকিৎসা সাময়িকী শীর্ষ সংবাদ স্বাস্থ্য চিকিৎসা
Share
12 Min Read
SHARE

অতীতে হাজার হাজার বছর ধরে নারীরা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সন্তান প্রসব করতেন বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাঁটু গেড়ে বা উবু হয়ে বসে সন্তান প্রসব করানোর বর্ণনাও ইতিহাসে পাওয়া যায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, উবু হয়ে বসলে সন্তান প্রসবের রাস্তা প্রশস্ত হওয়ার সুযোগ পায়, যার ফলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সন্তান প্রসব করাটা নারীদের জন্য তুলনামূলক সহজ হয়।

অন্যদিকে, বিছানায় পিঠ রেখে, তথা চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসব করার যে রীতি এখন ব্যাপবভাবে প্রচলিত রয়েছে, সেটি নারীদের জন্য ‘খুব একটা সুবিধাজনক নয়’ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। কেউ কেউ এটিকে সন্তান প্রসবের ‘বিপজ্জনক’ পদ্ধতি বলেও বর্ণনা করে থাকেন।

কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসবকালে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে নারীদের সন্তান প্রসবের রাস্তা তুলনামূলক ধীরগতিতে প্রশস্ত হয়, যার ফলে প্রসববেদনা দীর্ঘায়িত হয়। সেইসঙ্গে, গর্ভস্থ শিশুর শরীরে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহও ব্যাহত হতে পারে।

কিন্তু তা সত্ত্বেও এখনকার বেশিরভাগ নারীকে কেন বিছানায় পিঠ দিয়ে শুইয়ে রেখে সন্তান প্রসব করানো হয়? এই পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবের প্রচলনই-বা ঘটেছিল কীভাবে?

আরও পড়ুন

হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ইসরায়েলি ৪ সেনা নিহত, আহত ৬০

এসব প্রশ্নের জবাব খুঁতে গিয়ে দেখা যায়, চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসব করানোর বর্তমান রীতির প্রচলন হয়েছিল একজন পুরুষ চিকিৎসকের হাত ধরে। তার নাম ফ্রাঁসোয়া মারিসো, যিনি সপ্তদশ শতকে রাজা চতুর্দশ লুইয়ের শাসনামলে ফ্রান্সে বসবাস করতেন বলে জানা যায়।

ডা. মারিসো দেখেছিলেন, চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে সন্তান প্রসব করানোটা তার জন্য বেশি সুবিধাজনক। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে অন্য দেশগুলোতেও এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

কিন্তু তুলনামূলক দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রসববেদনা সহ্য করতে হওয়ার পরও নারী কিংবা ধাত্রীরা কেন চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসবের রীতি অনুসরণ করে যাচ্ছেন?

যুক্তরাজ্যের অ্যাক্টিভ বার্থ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা জ্যানেট বালাস্কাস বিবিসিকে বলেন, ‘গর্ভবতী নারী এবং পেশাজীবী যারা তাকে সন্তান প্রসবে সহায়তা করে থাকেন, তাদের উভয়ের মধ্যেই প্রসবকালীন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ অজ্ঞতা রয়েছে’।

‘জটিল ও ব্যয়বহুল’ পদ্ধতি
পশ্চিমা শিল্পোন্নত দেশগুলোসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে সন্তান প্রসবের জন্য নারীকে হাসপাতালের বিছানায় চিৎ শুয়ে থাকতে বাধ্য করা হয় বলে জানান জ্যানেট বালাস্কাস। তার ভাষায়, ‘এটি একটি অযৌক্তিক প্রথা, যা সন্তান প্রসবের মতো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে অহেতুক জটিল এবং ব্যয়বহুল করে তোলে।’

প্রচলিত এই পদ্ধতিতে প্রসূতি নারীকে ‘একজন নিষ্ক্রিয় রোগীতে’ পরিণত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর অন্য কোনো প্রজাতির প্রাণীকে সন্তান প্রসবের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন অসুবিধাজনক অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।’ বালাস্কাসের এই মতামতের সঙ্গে অন্য বিশেষজ্ঞরাও একমত পোষণ করেছেন।

‘দ্য কনভারসেশনে’ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধাত্রীবিদ্যার অধ্যাপক হান্না ডাহলেন লিখেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসব করার ঘটনাটি তুলনামূলকভাবে আধুনিককালের একটি ঘটনা, কয়েকশ’ বছর আগেও এভাবে সন্তান জন্ম দেওয়া হতো না’।

বালাস্কাস সন্তান প্রসবের ওপর একাধিক বই লিখেছেন, যেগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘অ্যাক্টিভ বার্থ ম্যানিফেস্টো’।

১৯৮২ সালে প্রকাশ ওই বইতে বলা হয়েছে, ‘পৃথিবীজুড়ে হাজার হাজার বছর ধরে নারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বা উবু হয়ে বসাসহ নানানভাবে সন্তান প্রসব করেছেন। জাতি বা সংস্কৃতি যাই হোক না কেন…ওইসব সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিগুলোই (সন্তান প্রসবের ক্ষেত্র) প্রাধান্য পেয়ে এসেছে।’

বইয়ের এই বক্তব্যকে নিজেদের মূল নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে বালাস্কাসের প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাক্টিভ বার্থ সেন্টার’।

ফ্রান্সের রাজার উৎসাহ
গবেষকরা বলছেন, মানব সভ্যতার হাজার হাজার বছরের ইতিহাসের মধ্যে মাত্র তিনশ থেকে চারশ বছরে আগে চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসব করার রীতি চালু হয়। এর প্রবর্তক ডা. ফ্রাঁসোয়া মারিসো দাবি করতেন, দাঁড়িয়ে বা বসে সন্তান প্রসবের তুলনায় শুয়ে সন্তান জন্ম দেওয়াটা নারীদের জন্য বেশি আরামদায়ক। যে চিকিৎসক প্রসূতি নারীকে সহায়তা করেন, এটি তার জন্যও অধিক সুবিধাজনক বলে মনে করতেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রচীনকাল থেকেই সাধারণ ধাত্রীরা প্রসূতি নারীদের সন্তান প্রসবে সহায়তা করে আসতেন। কিন্তু সপ্তদশ শতকের দিকে তাদের বাদ দিয়ে সেই জায়গায় প্রসূতি নারীর পাশে একজন শল্যচিকিৎসক উপস্থিত রাখার রীতি চালু হয়েছিল, যারা প্রায় সবাই ছিলেন পুরুষ। ফলে ওই পুরুষ চিকিৎসকরা তাদের নিজেদের সুবিধার্থে নারীদের চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসবের পদ্ধতির প্রচলন ঘটান।

ডা. মারিসো গর্ভাবস্থাকে একটি ‘অসুস্থতা’ হিসেবে বিবেচনা করতেন। ১৬৬৮ সালে প্রকাশিত তার ‘দ্য ডিজিজেজ অব উইমেন উইথ চাইল্ড অ্যান্ড ইন চাইল্ড-বেড’ গ্রন্থে ডা. মারিসো লিখেছেন, ‘সন্তান প্রসবের সবচেয়ে ভালো ও নিশ্চিত উপায় হলো বিছানায় শুয়ে প্রসব করা। এক্ষেত্রে সন্তান জন্মদানের পরে নারীদের নতুন করে বিছানায় নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হয়।’

তবে গবেষকদের কারো কারো মতে, চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসবের যে রীতির প্রবর্তন ডা. মারিসো ঘটিয়েছিলেন, সেটির পেছনে প্রভাব করেছিলেন ফ্রান্সের তৎকালীন শাসক রাজা চতুর্দশ লুই।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ম্যাকড্যানিয়েল কলেজের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক অধ্যাপক লরেন ডান্ডেস নারীদের সন্তান প্রসবের বিভিন্ন পদ্ধতির বিবর্তনের ওপর গবেষণা করেছেন।

১৯৮৭ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘কথিত আছে যে, রাজা চতুর্দশ লুই নারীদের (তার স্ত্রীদের) সন্তান প্রসবের দৃশ্য দেখতে পছন্দ করতেন। কিন্তু তখন বিশেষ চেয়ারে বসিয়ে সন্তান প্রসব করানো হতো, তাতে সন্তান প্রসবের দৃশ্যটি পরিষ্কারভাবে না দেখা যাওয়ায় রাজা হতাশ হতেন। সেজন্য তিনি হেলান দিয়ে সন্তান প্রসব করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।’ তবে রাজা চতুর্দশ লুইয়ের এই উৎসাহ তখন সাধারণ মানুষকে ঠিক কতটা প্রভাবিত করেছিল, সেটি পরিষ্কার নয়।

অধ্যাপক ডান্ডেস লিখেছেন, ‘রাজার নীতি কতটা প্রভাব রেখেছিল, সেটি পরিষ্কারভাবে জানা যায় না। তবে রাজপরিবারের যে কোনো সিদ্ধান্ত বা আচরণ সাধারণ প্রজাদের ওপর কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলে থাকে’ ।

তিনি মনে করেন, রাজা চতুর্দশ লুইয়ের উৎসাহ নারীদের মধ্যে চিৎ হয়ে শুয়ে সন্তান প্রসবের রীতি চালুর ক্ষেত্রে ‘সহায়ক প্রভাবক’ হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে।

তবে রীতিটি যেভাবেই চালু হোক না কেন, পরবর্তীতে তা একটি স্থায়ী রূপ পায় এবং ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, রীতিটি প্রসূতি নারীদের জন্য খুব একটা কল্যাণকর নয়, বরং ক্ষতির কারণ।

বিবিসিকে জ্যানেট বালাস্কাস আরও বলেন, ‘প্রচলিত রীতিতে সন্তান প্রসবের প্রক্রিয়াটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে, যার ফলে আগের মতো বাড়িতে সন্তান প্রসব করানোর মতো বিকল্পগুলো, যা স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক এবং প্রসূতি নারীদের অনেকের জন্য বেশি সুবিধাজনক, সেটি হ্রাস পাচ্ছে’।

বৈজ্ঞানিক ভিত্তি
হাজার হাজার বছর ধরে নারীরা যে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বা বসে সন্তান প্রসব করে আসছিলেন, সেটার মূল কারণ ‘মাধ্যাকর্ষণ শক্তি’। সন্তান জন্মদানের সময় নবজাতককে প্রসবনালীর মধ্য দিয়ে বের করতে হয়। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান জন্মের সময় নারীদের তাদের ইচ্ছামতো ভঙ্গি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে তারা স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং উবু হয়ে বসেন।

এক্ষেত্রে তারা হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়া বা নিচু চেয়ার বা অন্য কোনো আসবাবপত্রে হেলান দেওয়ার মতো ভঙ্গিগুলো অবলম্বন করেন।

২০১৩ সালে পাঁচ হাজারেরও বেশি জন নারীর ওপর পরিচালিত ২৫টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা বের হয়েছিল।

সেখানে বলা হয়েছে, যেসব নারী বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে থাকার পরিবর্তে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বা বসার ভঙ্গিতে সন্তান প্রসব করেন, অন্যদের সঙ্গে তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

যেমন- তাদের মধ্যে সিজার করে সন্তান প্রসবের ঝুঁকি কমে যায়, ব্যথা উপশমের জন্য এপিডুরালের ব্যবহার, তথা ওষুধ খুব একটা লাগে না। এছাড়া তারা যেসব শিশুদের জন্ম দেয়, তাদেরও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

সেইসঙ্গে, সোজা হয়ে দাঁড়ালে তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে সন্তান জন্ম নেওয়ায় নারীদের প্রসবযন্ত্রণাও কম ভোগ করতে হয়। তবে পর্যালোচনাটিতে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর’ নারীদের জন্য এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

কারণ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সন্তান প্রসব করলে অনেকসময় মায়ের রক্তক্ষরণ বেড়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধাত্রীবিদ্যার অধ্যাপক হান্না ডাহলেন ২০১৩ সালে প্রকাশিত নিবন্ধে লিখেছিলেন, ‘সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সন্তান প্রসব করানোটা প্রসূতি মা ও তার শিশু- উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক।’

দাঁড়িয়ে সন্তান প্রসব করলেও মায়ের তুলনামূলক কম ব্যথা পান, জরায়ুতে থাকা অবস্থায় শিশু ভালোমত অক্সিজেন পায় এবং সন্তান জন্মের জটিলতা তুলনামূলক কম হয় বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

অধ্যাপক ডাহলেন ও তার সহকর্মীরা ২০১১ সালে প্রসূতি নারীদের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। প্রসবকালীন পরিবেশ নারীদেরকে প্রসবের ভঙ্গি বা অবস্থানকে প্রভাবিত করে কি-না, সেটা দেখাই ছিল ওই গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য।

সেখানে গবেষকরা দু’টি ভিন্ন পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। প্রথমটি ছিল এমন একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, যেখানে স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্মদানের জন্য পিঁড়ি, বল এবং বসার জন্য বিন ব্যাগের মতো সহায়ক সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল।

আরেকটি ছিল হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ড, যেখানে সাধারণ একটি বিছানাই ছিল একমাত্র বিকল্প।

গবেষণাটির ফলাফলে দেখা যায়, হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ডের তুলনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রসূতিদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে সোজা হয়ে বসার প্রবণতা অনেক বেশি।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় ৮২ শতাংশ নারী সোজা হয়ে বসেন, যেখানে হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ডে এই হার ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ।

‘অ্যাক্টিভ বার্থ’
বিছানায় শুইয়ে সন্তান প্রসবের কারণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় অনেক দেশে সি-সেকশন বা সিজার করার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। এক্ষেত্রে সন্তান প্রসবের পুরনো রীতি ফিরিয়ে আনার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। রীতিটি পশ্চিমা দেশগুলোতে ‘অ্যাক্টিভ বার্থ’ নামে পরিচিত।

যুক্তরাজ্যের অ্যাক্টিভ বার্থ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা জ্যানেট বালাস্কাস বলছিলেন, উন্নত অনেক দেশে এখন ‘অ্যাক্টিভ বার্থ’ বা সক্রিয় প্রসবের ধারণা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে।

‘অ্যাক্টিভ বার্থ’ হচ্ছে সন্তান প্রসবের এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে বাচ্চা হওয়ার সময় প্রসূতি মা’কে জোর করে বিছানায় শুইয়ে না রেখে, সেটার পরিবর্তে স্বাধীন ও স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করার এবং সোজা হয়ে দাঁড়াবার বা উবু হয়ে বসার সুযোগ দেওয়া হয়।

বালাস্কাস বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে ‘অ্যাক্টিভ বার্থ’ বা সক্রিয় প্রসব ধারণাটি প্রসূতি সেবায় পরিবর্তন এনেছে। যেমন-হাসপাতালের বিকল্প হিসেবে ধাত্রী পরিচালিত প্রসব কেন্দ্র তৈরি হয়েছে’।

সক্রিয়ভাবে সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে প্রসূতি মা’কে কক্ষের ভেতর স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা এবং প্রয়োজনে পিঁড়ি বা চেয়ারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়, যা সাধারণত হাসপাতালে দেখা যায় না।

বালাস্কাস আরও বলেন, ‘পঞ্চাশ বছর আগেও এই ধরনের প্রসব কেন্দ্রের অস্তিত্ব চোখে পড়তো না’।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্সে’র (নাইস) নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রসবযন্ত্রণা শুরু হওয়ার দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রসূতিকে চিৎ বা অর্ধ-চিৎ হয়ে শুতে নিরুৎসাহিত করা উচিত। এর পরিবর্তে তাদের জন্য আরামদায়ক অন্য কোনো ভঙ্গি বা অবস্থান গ্রহণে উৎসাহ দিতে বলা হয়েছে।

‘জ্ঞানই শক্তি’
জ্ঞানই যেহেতু শক্তি, সেজন্য বিশেজ্ঞরা বলছেন, নারীরা তাদের প্রসব সংক্রান্ত বিকল্পগুলো সম্পর্কে যত বেশি অবগত ও সচেতন হবেন, তত বেশি তারা নিজেদের জন্য উপযুক্ত ও তুলনামূলক আরামদায়ক পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন।

বিবিসিকে কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধাত্রীবিদ্যার শিক্ষক আইলিন হাটন বলেন, ‘প্রসবকালীন বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে জনসচেতনতা সবসময়ই উপকারী’।

সন্তান জন্মদানের ওপর একাধিক গবেষণাপত্রও প্রকাশ করা এই শিক্ষক অতীতে ধাত্রী হিসেবে কাজও করেছেন।

আইলিন বলেন, ‘জনপ্রিয় সাহিত্য, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে সন্তান প্রসবের চিত্রায়ণের দিকে তাকালেই সহজে বোঝা যাবে, কীভাবে প্রসব প্রক্রিয়াকে মানুষের সামনে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। এখন নতুন করে সঠিকভাবে বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরে জনসচেতনা বাড়ানোর বিকল্প নেই’।

Share This Article
Facebook Twitter Whatsapp Whatsapp Telegram Copy Link Print
Leave a comment Leave a comment

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × four =

সর্বাধিক পঠিত

বিপিএলের তিনটি ভেন্যুতেই মিউজিক ফেস্ট করতে যাচ্ছে আয়োজক কমিটি,টিকিট বিক্রি শুরু

প্রথমবারের মতো বিপিএলের তিনটি ভেন্যুতেই মিউজিক ফেস্ট করতে যাচ্ছে আয়োজক কমিটি। যার প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে…

By চিকিৎসা সাময়িকী

নীরব প্রশাসন, ‘দখিনা সিটি’ প্রকল্পে সংখ্যালঘুদের ওপর উচ্ছেদের চাপ

সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর এলাকায় একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি…

By চিকিৎসা সাময়িকী

ছেলে জয় ও ভাগনি টিউলিপ সহ শেখ হাসিনার দুর্নীতি অনুসন্ধানে হাইকোর্টের রুল।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক মালয়েশিয়ার ব্যাংকের…

By চিকিৎসা সাময়িকী

সম্পর্কিত খবর

স্বাস্থ্য চিকিৎসা

২৪ অক্টোবর থেকে কিশোরীরা পাবে জরায়ুমুখ ক্যানসারের টিকা

By চিকিৎসা সাময়িকী
শীর্ষ সংবাদস্বাস্থ্য চিকিৎসা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গজ, ব্যান্ডেজ, সিরিঞ্জ কেনার পর্যাপ্ত টাকা নেই: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

By চিকিৎসা সাময়িকী
জাতীয়শীর্ষ সংবাদ

শুরু বৈশাখী শোভাযাত্রা, চারুকলা থেকে বর্ণিল আয়োজনে মানুষের ঢল

By চিকিৎসা সাময়িকী
জাতীয়শীর্ষ সংবাদ

সচিবালয়ে আগুনের ঘটনায় ৯ থেকে ১১ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

By চিকিৎসা সাময়িকী
Chikitsha Samoyeki
Facebook Twitter Youtube
Chikitsha Samoyeki

Chikitsha Samoyeki: চিকিৎসা সাময়িকী Your instant connection to breaking stories and live updates. Stay informed with our real-time coverage across politics, tech, entertainment, and more. Your reliable source for 24/7 news.

ম্যাগাজিন
সম্পাদকীয়

সম্পাদক: ডাঃ মির্জা মহিবুল হাছান

সহকারী ব্যবস্থাপক: ফরিদুল আলম কাজল

অফিস

কার্যালয়: ৭০/ই পল্টন লেন, ঢাকা- ১০০০।

নিউজ ও বিজ্ঞাপন : +২২২ ৬৬৬ ৪৬৮৭, ০১৫৫৯-১৩৩৩৭২, ০১৬১১-৫০৭৪২২

ইমেইল: info@chikitshasamoyeki.com

© 2025 Chikitsha Samoyeki. পোর্টাল বাস্তবায়নে : AX2Z IT Solution
  • About
  • Contact
  • Terms & Conditions
  • Privacy Policy
  • Sitemap
Welcome Back!

Sign in to your account

two + seventeen =