যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার আওতায় থাকা (এনএইচএস) ক্লিনিকগুলোতে এখন থেকে শিশুদের টাইপ ১ ডায়াবেটিস শনাক্তে বিশেষ স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক একটি আলোড়ন সৃষ্টি করা গবেষণার পর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অনেক শিশুই বর্তমানে গুরুতর জরুরি অবস্থায় পড়ার পর এই রোগ সম্পর্কে জানতে পারে। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এলসা গবেষণার ফলাফল বলছে, আঙুল থেকে রক্ত নিয়ে সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমেই উপসর্গ প্রকাশের অনেক আগেই এই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। এই উদ্ভাবন ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে প্রায় চার লাখ মানুষ টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত; যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কেবল জরুরি অবস্থায় পড়ার পরই প্রথমবার রোগটি সম্পর্কে জানতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের এই ঝুঁকি শনাক্ত করা যায়, তবে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে ইনসুলিন গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা কয়েক বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব। এই গবেষণার প্রথম দুই বছরে তিন থেকে ১৩ বছর বয়সী প্রায় ১৭ হাজার শিশুর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ২০০ জনেরও বেশি শিশুর রক্তে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বা লক্ষণ খুঁজে পাওয়া গেছে।
গবেষণার পরবর্তী ধাপে দুই থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ব্রিটেনের ২০টি স্থানে বিশেষ ক্লিনিক স্থাপন করা হবে। এসব ক্লিনিকে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের জন্য বিশেষ শিক্ষা ও সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া এনএইচএসের অনুমোদন সাপেক্ষে ‘টেপলিঝুমাব’-এর মতো নতুন ধরনের ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে, যা ইনসুলিন নির্ভরতা কমাতে সহায়ক।
গবেষকরা বলছেন, এই ব্যবস্থার ফলে শিশুদের হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়া ডায়াগনোসিস রোধ করা যাবে এবং তাদের দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ রাখা সম্ভব হবে।
সূত্র: স্কাই নিউজ





